হিন্দি আগ্রাসনের কাছে বাঙালির অপমান!উন্মোচন হল মুক্তপন্থী বাঙালি জাতিয়তাবাদী সংগঠন ঐক্য বাংলার

ঐক্য বাংলা(Aikya Bangla): বাঙালির যেন আতঙ্ক-লগ্নে জন্ম।ভারত রাষ্ট্রে বাঙালিকে যতবার যতভাবে আতঙ্কের শিকার করে তোলা হয়েছে, আর কোনও ভাষার মানুষকে এই দুর্ভাগ্যের শিকার হতে হয়নি। অন্য ভাষার ক’জন মানুষ এই দুঃখ কতটা উপলব্ধি করতে পারবেন সংশয় হয়। অথচ, ভারত স্বাধীন হয়েছে মূলত বাঙালিরই রক্তের বিনিময়ে। আর সেই স্বাধীনতার ভাগে বাঙালিকেই বঞ্চনা চলছে ধারাবাহিকভাবে। অসমের চূড়ান্ত এনআরসি তালিকায় চরম হতভাগ্য চিহ্নিত হয়েছেন 19 লক্ষাধিক মানুষ। তাঁদের মধ্যে হিন্দু বাঙালি 12 লক্ষাধিক। বাকিরা মূলত মুসলমান। কিছুদিন আগে বিজেপির বিভিন্ন নেতার গলায় শোনা গেছে বাঙালি বিরোধী মন্তব্য- বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেছেন বাঙালি শ্রমিকরা শুধু  চিঁড়ে খায়, দিলীপ ঘোষ বলেছেন বাঙালি মানেই আজ চোর, চিটিংবাজ।বাংলাদেশি সন্দেহে ব্যাঙ্গালোরে প্রায় 200 বাঙালির বাড়িঘর দোকান গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল,ব্যাঙ্গালোর থেকে অন্তত 60 জন বাঙালিকে গ্রেপ্তার করেছিল, যাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।

আরও পড়ুন  একুশের বিধানসভার আগে বড়সড় রদবদল মালদহের তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরে

বাঙালি জাতির বিকাশের লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করল বাঙালির নতুন সংগঠন ‘ঐক্য বাংলা।কলকাতা প্রেস ক্লাবে উন্মোচন হয় বাংলার প্রথম মুক্ত পন্থী বাঙালি জাতিয়তাবাদী সংগঠন ঐক্য বাংলার। এই বিশেষ করে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতৃবৃন্দ – সাধারণ সম্পাদিকা সুলগ্না দাশগুপ্ত, সহযোদ্ধা দেবায়ন সিংহ, অভিজ্ঞান সাহা, আশীষ ভট্টাচার্য, সোমনাথ সরকার, চন্দন দাস, মোনালিসা মীত্র সহ অনেক নেতৃত্ববৃন্দ। তাছাড়াও  উপস্থিত ছিলেন লেখক অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়, সংগীতশিল্পী অমিত দাস,সিপিডিআর সংস্থার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ, চিত্রপরিচালক অরূপ ভঞ্জ । উক্ত অনুষ্ঠানে সুলগ্না দাশগুপ্ত বলেন, ‘নিজের দাদা-ঠাকুরদার নিজের রাজ্য এই বাংলাতেই আজ বাঙালি ব্রাত্য। এখানে বাঙালিকে পিছিয়ে রেখেছেন অবাঙালি আধিপত্য এবং হিন্দি সাম্রজ্যবাদ। অথচ, সমাজের কোনও স্তর থেকে নিজের রাজ্যে বাঙালির এই পিছিয়ে পড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে না। তাই আমরাই বাঙালি জাতিকে তুলে ধরার জন্য সরব হয়েছি।

Facebook Comments

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *