এসএসসি পরীক্ষার অনশনে 70 জন চাকুরী প্রার্থী অসুস্থ

এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনশনরত প্রার্থীদের মধ্যে আরো চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেনI তাদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেI কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে 22 দিন ধরে চলা অনশন আন্দোলন এই পর্যন্ত 70 জন কর্ম প্রার্থী অসুস্থ হয়েছেনI এসএসসি যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের তরফ থেকে তানিয়া শেখ জানিয়েছেন- চাকরির ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে এখনো কোন লিখিত আশ্বাস মেলেনি তাই অনশন চলবেI গত ২৮-এ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে মেয়ো রোডে এসএসসির শূন্যপদে নিয়োগের দাবিতে অনশনে বসেছিলেন প্রায় সাড়ে তিনশো এসএসসি প্রার্থী। ইতিমধ্যেই পেরিয়েছে অনশনের কুড়ি দিন। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তাঁরা। আন্দোলনকারীদের হাতের পোস্টার-ব্যানার তেমনটাই বলছে। পাশাপাশি অনশনকারীদের দাবি, প্রশাসনিক মহল থেকে যা উত্তর এসেছে তাতে সন্তুষ্ট নন তাঁরা। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেও কোনও সুরানি পাননি বলেই অভিযোগ তাঁদের। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল গতকাল। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বীরভূমের রুমকি প্রামানিক, গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন আরেক যুবতি। অসুস্থ ১০০ জনকে জোর করে বাড়ি ফেরত পাঠিয়েছেন সঙ্গীরা, তাঁদের মধ্য়ে ছিলেন বেশ কয়েকজন সন্তানসম্ভবাও। হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে প্রায় ৫৫ জনকে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন অবস্থার অবনতি হলেও কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি বলেই জানাচ্ছেন তানিয়া, ইনসানরা। ফেসবুক হোয়াটঅ্যাপের মতো সোশাল মিডিয়ার হাত ধরেই একত্রিত হয়েছিলেন ওই প্রার্থীরা। এরপর ‘এসএসসি যুব-ছাত্র অধিকার মঞ্চ’ গঠন করে এসএসসিতে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে অনশনে বসেছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের জানাচ্ছেন, বিভিন্ন জেলার স্কুলে হাজার হাজার পদ খালি। তা সত্ত্বেও নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বহু প্রার্থীর নাম ওয়েটিং লিস্টে তুলে দেওয়া হয়েছে। এসএসসি কার্যত নিরব। শূন্যপদের বিষয়টি আপডেট করা হচ্ছে না। ফলে প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছেন না। অবিলম্বে তাঁদের নিয়োগের দাবিতে মেয়ো রোডে প্রেস ক্লাবের সামনে আমারণ অনশনে বসেছেন প্রায় সাড়ে তিনশ যুবক-যুবতী। অনশনকারীদের অভিযোগ, নবম-দশম-একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ ঠিকমতো হয়নি। যাঁরা এখানে বসে আছেন তাঁরা কেউ অকৃতকার্য নন। তবু অন্যায়ভাবে ওয়েটটিং লিস্টে রাখা হয়েছে তাঁদের। কখনও আকাশ ভাঙা বৃষ্টি, কখনও আবার চাঁদিফাটা রোদ। খামখেয়ালি আবহাওয়াকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই শহরের রাজপথে দিন কাটাচ্ছে প্রায় ২০০ জন যুবক-যুবতী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *